kua

Posted by: | Posted on: August 21, 2021

দীর্ঘ ১৩৯ দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) থেকে দেশের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের মতো খুলে দেওয়া হয়েছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটাও। প্রথমিদনে আশানুরূপ পর্যটক না এলেও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সক্রিয় ছিল স্থানীয় প্রশাসন। কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রে খোলার প্রথম দিনেই স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ১০ পর্যটককে ২০ হাজার এবং ১১ রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীকে ৩৮ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট ও চৌরাস্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা আদায় করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জগৎবন্ধু মন্ডল। এ সময় ইকোফিসের জীব বৈচিত্র্য গবেষক সাগরিকা স্মৃতি ও মহিপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরানসহ টুরিস্ট পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

kuakata1

মাদারীপুর থেকে আসা পর্যটক ঈশিতা বলেন, ‘গতকাল দুপুরে কুয়াকাটা এসে পৌঁছেছি। আবহাওয়া খারাপ থাকায় দিনে আমরা বের হতে পারিনি। রাতে সৈকতে ঘুরতে বের হয়েছি। তবে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করার দায়ে আমাদের জরিমানা গুনতে হয়েছে। গতকালকে কুয়াকাটায় তেমন পর্যটক ছিল না। আজকে কিছু লোকজন আসতে শুরু করেছে। কুয়াকাটা পূর্বের রূপ ফিরে পেতে একটু সময় লাগবে। অনেকে এখনও জানে না যে, পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া করোনার কারণে এখনও অনেকে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। আমরাই অনেকদিন ঘরবন্দি, কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়নি। তাই খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কুয়াকাটা এসেছি।’

কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবসায়ী কে এম বাচ্চু বলেন, ‘আমার কর্মচারীরা সবাই কাজে এসেছে। ট্যুর অপারেটরদের কার্যক্রম, বিচ বাইক ও ফাইবার বোর্ডসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সবকিছু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু তেমন লোকজন না থাকায় কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন। আজ শুক্রবার (২০ আগস্ট) সরকারি ছুটির দিন, সেই হিসেবে আজকে উপচেপড়া ভিড় থাকার কথা ছিল। কিন্তু আশানুরূপ পর্যটক আসেনি। আজ এখন পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট আসেনি। বিকালে যখন পর্যটকরা বিচে নামেন তখন ম্যাজিস্ট্রেট এসে জরিমানা করেন।’

kuakata3

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মোতালেব শরিফ জানান, কুয়াকাটা পূর্বের রূপ ফিরে পেতে সময় লাগবে। কারণ দেশে এখনও করোনা নির্মূল হয়নি। যারা সচেতন তারা এখনও ঘর থেকে বের হচ্ছে না। গতকাল কিছু পর্যটক এসেছে। আজকে ছুটির দিন হওয়ায় আরও পর্যটক আসার কথা ছিল। কিছু পর্যটক হোটেল বুকিং করেছেন, কিন্তু আসেনি বরিশালে সমস্যার জন্য। কুয়াকাটায় প্রশাসন খুব কড়াকড়ি অবস্থায় আছে। স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করলে জরিমানা করা হচ্ছে। গতকাল কয়েকটা হোটেল ও ১০ পর্যটকেরে জরিমানা করা হয়েছে।

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের জোন ইনচার্জ বদরুল আলম জানান, মাস্ক পরিধান ছাড়া পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে না। শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হয়েছে। এ জন্য মাইকিং করাসহ দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিষেধ করা হচ্ছে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানেনি বৃহস্পতিবার তাদের জরিমানা করা হয়েছে।

এ বিষয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জগৎবন্ধু মন্ডল জানান, করোনা সংক্রমণ রোধে প্রথমে মাইকিং করে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হয়েছে। এরপরও যারা স্বাস্থ্যবিধি মানেনি তাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।