163521506_349055779781692_690345377393985994_n

Posted by: | Posted on: March 23, 2021

নাজনীন,নিয়মানুবর্তিতা ও ভাষাসংগ্রামীআহমদ রফিক
——- জাঁ-নেসারওসমান

এম.এস.নাজনীন(ছদ্মনাম)। ব্যাংকেরম্যানেজার। বাব্বা, ব্যাংকেরম্যানেজার। কত্তবড় দায়িত্বরে. বাবা। জনসাধারণেরগচ্ছিতআমানতের. দেখ ভাল, চাট্টিখানিকথা! পান থেকে চুনখসলেই ত্রাহিমধুসূদন ত্রাহিমধুসূদন, দত্ত। তাইনিয়মানুসারে. সব কাজকরেননাজনীন। ব্যাংকেনিয়মানুবর্তিতায়নাজনীনেরবিষমসুনাম। ধাপেধাপেনাজনীনইভিপি,ভিপি,ডিএমডি, এমডিহবেইবলেসবেরবিশ্বাস। এমনি এক নিয়মনিষ্টনাজনীনেরহাতেএসেপড়লোবিরানব্বইবছরেরযূবাপুরুষ ১৯৫২ সালেরপাকিস্তানবিরোধী, ভাষাসংগ্রামী, রবীন্দ্র গবেষক, কবি, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিকআহমদ রফিকের চেক। এ্যাঁ, এ-কি!! সই মেলেনা!! ও হরিকিকরি? নাজনীনেরনিয়মানুবর্তিতারধমণীসজাগ। কিহতেকি হয়। হালের দুইনাম্বার পিকেহালদারেরমতো কোনো বেজন্মাজনসাধারণেরহাজারহাজার কোটিটাকানিয়ে লোপাটহচ্ছে, এটাওএমনি দুইনাম্বার কিছুনয়তো?? নাজনীনপিবিআই এর, বনজকুমারমজুমদারেরমতোসজাগ।
“এ্যাই, আহমদ রফিকের চেক এনেছে কে?”“জ্বী, আমি, কথাশিল্পী শওকত ওসমানেরকনিষ্ঠপুত্র।”
“চেক, কারনামে?”“আবুলকালামের নামে।”“আবুলকালাম কে?”
“ ভাষাসংগ্রামী, রবীন্দ্র গবেষক, কবি, সাহিত্যিকআহমদ রফিকেরপঁয়ত্রিশ বছরের সারথী, ড্রাইভার,কালামভাই”
“ ভোটার আইডির ফটোকপি এনেচেন?””‘‘জ্বী, এই যে।”
“ঠিকআছে, আমি এক্ষুনি টাকা দিয়ে দিচ্ছি। এই ফৌজিয়া(ছদ্মনাম), তুমি স্বাক্ষর স্ক্যানকরে. ব্রাঞ্চে ইমেইল কর, ওরা যদি ওকে করে. তাহলে টাকা ছাড় দিবা। বুঝলা। বি কেয়ারফুল। জানোত আজকাল বড়বড় বাঘাবাঘা ব্যাংকার হাতী-শুঁড়, সব্বাই দুইনাম্বার পিকেহালদারের সাথে জড়িত, সাবধানেকাজ করো। আপনি বসেন।”
“ম্যাডাম, ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক স্যার, হাসপাতালে। তাঁর অপারেশন হবে। টাকাটা অগ্রীম জমা না দিলে ধন্বন্তরি ব্যবচ্ছেদে হাত দিবেনা। টাকাটা যদি একটু তাড়াতাড়ি দিতেন।”
“ হেঁঃ হেঁঃ বুঝলেননা। একটু অপেক্ষা করেন। দুই মিনিট লাগবে। আমরা চেকের সই স্ক্যান করবো, তারপর ব্রাঞ্চে মেইল করবো, ব্রাঞ্চসই দেখে সই মিলাবে তারপর ওরা -ইমেইল ব্যাক করবে। ওরা ওকে করলে সাথে সাথে টাকাপাবেন। আর ওরা যদি ওকে না করে. তাহলে আমিটাকা দিতে পারবোনা। বুঝেন তো অন লাইনব্যাংকিং। এই ফৌজিয়া তুমি কারে. মেইল দিছো? দাও আমি তার লগেকথা কোই।”“ম্যাডাম ওপেন মেইল দিচ্ছি, যে ক্উে ওপেন করতে পারবে।”“ এখোনো মেইল দ্যেও নাই?”“জী¡,না,ম্যাডাম।”
“ম্যাডাম, আপনি স্বাক্ষর মেলানোর জন্য কোন ব্রাঞ্চে ই-মেইল দিচ্ছেন?” কথাশিল্পী শওকত ওসমানের কনিষ্ঠপুত্র, মিনমিন করে।
“মৌচাকব্ রাঞ্চে।”“তাহলে চেকটা দিন, আমরা সরাসরি মৌচাকে যাই, মৌচাকে যেয়ে ঢিলমারি।”
“ হেঁঃ হেঁঃ তাহলে তো খুব ভালো হয়্ হেঁঃ ঞেঁঃ।”
কথাশিল্পী শওকত ওসমানের কনিষ্ঠপুত্র, আর দেরী নাকরে.কালাম ভাইসহ গ্যাসচালিত বেবি ট্যাক্সি নিয়ে দ্রত রওয়ানা হলো।
টাকা অগ্রীম জমা দিতে দেরী হলে ধন্বন্তরি না আবার ড্র্যাকুলাকে ডেকে পাঠাবে, পাকিস্তানিরা যা পারেনি তোরাতাই কর, ভাষা সংগ্রামীআহমদ রফিকের রক্তচোষ। ওদিকে টাকাআনতে দেরী দেখে, নাদিয়া,শাখন,সাদী,রাসেল রক্তদাতা হাশমীবারবার ফোনকরছে।
যাক কোনোমতে রাস্তার জ্যাম ঠেলে মৌচাকব্ রাঞ্চে পৌছাঁতেই ছ’ফুটতিন-ইঞ্চি লম্বা বড়–য়া(ছদ্মনাম) সব শুনে বললেন; হেঁঃ হেঁঃ ইচ্ছা করলে নাজনীন ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকস্যারকে ফোনকরে. এই সামান্য অংকেরটাকা দিয়া দিতে পারতো। এই কালু(ছদ্মনাম) ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক স্যরকে ফোনে লাগায়া কনফার্ম কর।
কাউলা মানেকালু সাথে সাথে ভাষাসংগ্রামীআহমদ রফিক স্যারকে ফোনকরে. কথা বলে ক্যাশেটাকা দিতেবললো।
ও মোর কোপাল, আধাঘন্টা, চল্লিশমিনিট, ক্যাশ আর টাকা দেয় না। কামনু ক্যাশট্যাহা দেয় নাকা? ঘুষ চায় নাহি!! ওদিকে ওটিতে টাকা অগ্রীম জমা পড়ছেনা। টেনশেন।
টাকা দিতে দেরী দেখে দীর্ঘ দেহীবড়–য়া ক্যাশে যেয়ে লাগালো এক ধমক,“ ওই বেডী ট্যাকা দে?” ব্যাস সাথে সাথে ক্যাশের বেডী রহিমা(ছদ্মনাম) টাকাদিয়ে দিলো।
ড্র্যাকুলাধন্বন্তরি, সব ছুরি কাঁচিতে শান দিচ্ছে, টাকা আসবে মুরগী জবাইহবে। শুরু হবে অপারেশন। ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক সবুজজীবনফিরে. পাবে।
টাকা নিয়ে বেবীট্যাক্সি। কিছু দূর. যেতেই বিধিবাম। ভিভিআইপি মুভমেন্ট, রাস্তাবন্ধ। টাকা নিয়ে পৌঁছাতে দেরী হলে না আবার অপারেশনের ডেট ফেইল করে!! তাড়াতাড়ি বেবী থেকে নেমে কালামভাই সহ ছুটত্ছেুটত্রোস্তা পার হয়ে রিক্সা নিয়ে হাসপাতাল পৌঁছে টাকা নিয়ে ওটিতে।
টাকা দেখে ড্র্যাকুলাধন্বন্তরি হযবরল ’রবিড়ালটার মতো ফ্যাক করে. হেঁসে ফেললো। বিগলিত হাঁসি হেঁসে বলল;
“ যান সব ঠিক হয়া যাইবো। জয়বাংলা, জয় আহমদ রফিক।”
ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের কষ্টের টাকা এখন ওটির টেবিলে। তাই দেখে ধন্বন্তরির হাসি আর থামেইনা!! ”