Main Menu

শওকত ওসমানের ১০৪তম জন্মদিন ২ জানুয়ারী

ডেইলি প্রেসওয়াচ রিপোর্টঃ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কথাশিল্পী শওকত ওসমানের ১০৪তম জন্মদিন ২ জানুয়ারী ১৯১৭ সালের এই দিনে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। তার আসল নাম শেখ আজিজুর রহমান। এ উপলক্ষে শনিবার বিকাল ৪ টায় জাতীয় জাদুঘরে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কথাশিল্পী শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদ। ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিকের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযক্তি মন্ত্রি স্থপতি ইয়াফেস ওসমান,পানিসম্পদ উপ-মন্ত্রি এ কে এম এনামুল হক শামীম,বেগম রোকেয়া বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডঃ নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সাহিত্যিক আন্দালিব রাশদী,বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ডিজি খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান  সহ অন্যান্যরা উপস্থিত থাকবেন।

শওকত ওসমান কর্মজীবনের শুরু ১৯৩৬ সালে কলকাতা করপোরেশনে কেরানির চাকরি দিয়ে। ১৯৪১ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাস করেন। এরপর যোগ দেন শিক্ষকতা পেশায়, গভর্মেন্ট কমার্শিয়াল কলেজে। ১৯৪৭ সালে শওকত ওসমান পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন।

১৯৫৯ সালে যোগ দেন ঢাকা কলেজে এবং এখান থেকেই ১৯৭২ সালে অবসর গ্রহণ করেন। শওকত ওসমানের সবচেয়ে আলোচিত দুটি বই হচ্ছে ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত ‘জননী’ এবং ১৯৬২ সালে প্রকাশিত ‘ক্রীতদাসের হাসি’। তিনি ছিলেন আজন্ম শোষকের বিরুদ্ধে। তার লেখনীর মাধ্যমে তিনি শোষিতের কথা বলেছেন। ‘ক্রীতদাসের হাসি’ সর্বকালের স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে গণজাগরণের দিশারী। একই সঙ্গে তার ‘জননী’ উপন্যাসটি ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তিনি দেশদ্রোহী ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। শওকত ওসমান মূলত ঔপন্যাসিক এবং ছোটগল্পকার হিসেবে পরিচিত। তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্য রচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থের ক্ষেত্রেও মুন্সিআনার পরিচয় দিয়েছেন। বিভিন্ন ভাষার অনেক উপন্যাস, গল্প ও নাটক তিনি অনুবাদ করেছেন। উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে জননী, ক্রীতদাসের হাসি, সমাগম, চৌরসন্ধি, রাজা উপন্যাস, জাহান্নাম হইতে বিদায় প্রভৃতি। গল্পগ্রন্থের মধ্যে আছে জুনু আপা ও অনান্য গল্প, মনিব ও তাহার কুকুর, ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি। স্মৃতিকথার মধ্যে রয়েছে স্বজন সংগ্রাম, কালরাত্রির খণ্ডচিত্র, অনেক কথন, গুডবাই জাস্টিস মাসুদ, উত্তর পর্ব, মুজিব নগর প্রভৃতি।

সাহিত্যকর্মে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৬২ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৭৬ সালে প্রেসিডেন্ট প্রাইড অব পারফরমেন্স পদক, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক, ১৯৮৬ সালে নাসিরুদ্দিন স্বর্ণপদক, ১৯৮৮ সালে মুক্তধারা পুরস্কার, ১৯৮৯ সালে ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯১ সালে টেনাশিস পুরস্কার, ১৯৯৬ সালে মাহবুবউল্লাহ ফাউন্ডেশন পদক ও ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার পান। তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ মে ঢাকার সম্মিলিত মিলিটারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।






Related News