ugc

Posted by: | Posted on: December 25, 2020

নব্বইয়ের দশকে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে’র ধারণা বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে একটা বড় ধাক্কা দেয়। তখন সমাজে একটা বড় পারসেপশন ছড়ানো হয়– এসব প্রতিষ্ঠানে ‘বড়লোকের বখাটে সন্তান’রা পড়তে আসে। কিংবা যারা ‘মেধায় দুর্বল’ কিন্তু ‘বাবার টাকা আছে’ তারা এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ে। এই পারসেপশনটা কমে এলেও সমাজ থেকে একেবারে মুছে যায়নি। অথচ বাস্তবতা হলো, গত ত্রিশ বছরে বাংলাদেশে ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে।

বাংলাদেশের জিডিপিতে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা অবদান রাখছেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তো বটেই; সরকারি চাকরি, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, ব্যাংক, বিমা, গণমাধ্যম, ব্যবসা– সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এমনকি স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়া শেষ করে অনেকে দেশে ফিরছেন কিংবা বিদেশে উচ্চ পদে চাকরি করছেন। তারপরও সমাজের পারসেপশনের দেয়ালটা পুরোপুরি ভাঙা সম্ভব হয়নি। এটা একটা বড় দুর্ভাগ্যের বিষয়।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল শর্ত হলো এটাকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হতে হবে, আইনে সেটাই বলা আছে। অর্থাৎ কেউ যদি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে চান তবে ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করতে হবে। ট্রাস্টি বোর্ডের অর্থায়নেই সব করতে হবে এবং এখান থেকে লাভের এক পয়সাও বোর্ড নিতে পারবে না। যে অর্থ আয় হবে সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নেই ব্যয় করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরতে চাই–

১. বারবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর করারোপের চেষ্টা করা হয়েছে, হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রতিবার বিষয়টি স্থগিত হয়। এ বছরও বাজেটে দেখা গেলো ১৫% কর ধার্য করা হলো। কর নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খুব চমৎকার একটা ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। তারা বলেন, ‘ভ্যাট তো বিশ্ববিদ্যালয় দেবে, শিক্ষার্থীরা নয়’। অথচ সাধারণ জ্ঞানে বলা যায়, একটা অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের তো লাভই থাকার কথা নয়। তাদের তো আয়কৃত অর্থ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যয় করার কথা। তাহলে সে কর কোথা থেকে কিংবা কীসের ভিত্তিতে দেবে? আর এ জন্যই এই করের বোঝাটা স্বাভাবিকভাবেই এসে পড়বে শিক্ষার্থীদের ওপর। এ কথা বহুবার বলা হলেও লাভ হয় না।

২. সম্প্রতি একটি সংবাদে দেখলাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে– এ বছরের (২০২১) ২৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ অস্ট্রেলিয়ার মোনাস কলেজের স্টাডি সেন্টার স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। একটি বিষয় স্পষ্ট যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুযায়ী, বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘ট্রাস্ট আইন, ১৮৮২’ অধীনে অলাভজনক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়। আবার বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪’-এর অধীনে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুমোদন দেওয়ায় কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এক দেশে দুই আইনে শিক্ষার প্রসার কীভাবে সম্ভব– সেটা বোঝা মুশকিল। একদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নানান আইন-নিয়ম-কানুনের জালে আটকে বিদেশি স্টাডি সেন্টারগুলোকে যদি এভাবে শিক্ষা ব্যবসায় নামিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেই শিক্ষা কতটা জনকল্যাণে হবে- তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়। মনে রাখতে হবে, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের কোনও সহযোগিতা থাকে না। ক্যাম্পাস নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে লাইব্রেরির বই ক্রয়, কম্পিউটার ল্যাব, ইলেকট্রনিক ল্যাব স্থাপনসহ যা যা করার প্রয়োজন আছে, এর কোনও কিছুতেই ছাড় নেই।

তার মধ্যে বিদেশি স্টাডি সেন্টার যদি দেশে অবাধে বিচরণ শুরু করে তাহলে দেশের ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ যে হুমকির মুখে পড়ে যাবে, তা বুঝতে কোনও রকেট সায়েন্স জানার প্রয়োজন হয় না।

আগে তো আমার দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দাঁড়াতে দিতে হবে। তাকে স্বাবলম্বী না করে আমরা বিদেশি স্টাডি সেন্টারের ব্যবসার বাজার খুলে দিলাম? এটা কি দেশের জন্য ভালো কিছু হলো?

৩. বর্তমানে করোনাকাল চলছে। হলফ করে বলে দেওয়া যায়, গত দেড় বছরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভয়াবহ আর্থিক সংকটে আছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষকদের বেতন দিতে পারেনি। কেউ কেউ অর্ধেক বেতন পরিশোধ করেছেন। কারণ, আয়ের বিকল্প কোনও  উৎস তো নেই। একমাত্র টিউশন ফি’র ওপরই নির্ভর করতে হয়। শিক্ষার্থীরা যদি টিউশন ফি নিয়মিত না দিতে পারে তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোথায় টাকা পাবে? তার তো টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের তো এখন সহযোগিতা প্রয়োজন।

সামনের সারির ১০-১৫টা বিশ্ববিদ্যালয় হয়তো ভালো অবস্থানে আছে। সেটাও নিশ্চয়ই রাজধানী কেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, তাও সবক’টি নয়। অথচ দেশব্যাপী যত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে তাদের অবস্থা কি সরকারের পক্ষ থেকে জানার চেষ্টা করা হয়েছে?

এই মহামারিতে মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। অনেকে হয়তো বেতন অর্ধেক পাচ্ছেন কিংবা অনেকের নিয়মিত বেতনও হচ্ছে না। এমন একটা অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে অভিভাবকরা কীভাবে সন্তানের বেতন অথবা টিউশন ফি পরিশোধ করবেন?

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে মহাসংকটে। টিউশন ফি না দিলে শিক্ষার্থীকে তো পড়াশোনায় বাধা দিতে পারছে না। এটা তো একটা মানবিক বিষয়। এ জন্য কখনও কঠোর, কখনও নরম সুরে শিক্ষার্থীদের কাছে টিউশন ফিস চেয়ে যাচ্ছে। অনেককে বৃত্তির আওতায় নিয়ে এসেছে। আবার অনেক শিক্ষার্থী টিউশন ফি দিতে না পারার কারণে পড়াশোনা থেকে ছিটকে পড়ছে। এগুলো কি সরকার বিবেচনায় নেবে না? সরকারের তো ভাবতে হবে এই মহাসংকট অতিক্রম করার জন্য কীভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানো যায়? এসব না ভেবে আমরা কর আরোপ করলাম, আবার বিদেশি স্টাডি সেন্টার অনুমোদন দিয়ে দিলাম!

হ্যাঁ, একটা বিতর্ক আছে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম-নীতি মানে না। তাই সরকারকে কঠোর অবস্থানে থাকতে হয়। তাহলে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় অনিয়ম, দুর্নীতিতে নিমজ্জিত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তো কেউ বাধা দিচ্ছে না। এছাড়া এসব বিষয় দেখার জন্য তো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আছে। কিন্তু যারা নিয়ম মেনে চেষ্টা করছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার, তাদের পাশে তো দাঁড়াতে হবে।

মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে একটা বড় জনগোষ্ঠীর সন্তানরা এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। তারা সবাই ধনী নন। মধ্যবিত্ত থেকে নিম্ন মধ্যবিত্তসহ সব শ্রেণির সন্তানরা এখানে পড়ছেন। অনেক বাবা-মা  জমিজমা বিক্রি করে সন্তানকে পড়াচ্ছেন। তারা তো একটা নির্দিষ্ট বাজেট হিসাব করে সন্তানকে পড়তে পাঠান। কিন্তু যখন করারোপের কারণে টিউশন ফি বাড়বে তখন সেই বোঝাটা পুরো পরিবারের ওপর আসবে। সেটা সরকারের কাছে খুব সামান্য হতে পারে, কিন্তু একটা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে ৫ হাজার টাকাও অনেক বড় একটা অংক। এই টাকায় হয়তো তিনি তার আরেক সন্তানের খরচ চালাতেন।

বাংলাদেশ সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া রাষ্ট্র। এ দেশের মানুষ রক্ত দিয়ে দেশটা এনেছে। রাষ্ট্র গঠনের শুরুর দিকে আমরা যদি তাকাই, তবে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কথা আলোচনায় ছিল। কলোনিয়াল শিক্ষা ব্যবস্থার নীতিকে পরিবর্তন করে সমাজতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনে কী ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা হবে– সেটা নিয়ে চলেছিল তুমুল আলোচনা।  কারণ, সমাজতন্ত্র এই দেশ নির্মাণের অন্যতম একটি ভিত্তি ছিল; সেই চেতনানির্ভর একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এটাই স্বপ্ন ছিল সবার। তৎকালীন সময়ে পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে অনেক আলোচনা-মতামত এবং সরকারি সিদ্ধান্ত প্রকাশ হয়েছে।  

যেমন, ১৯৭২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সরকারের একটি প্রেসনোটের সংবাদ দৈনিক বাংলায় প্রকাশ হয়। সেখানে বলা হয় সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বেতন কমিয়ে দেওয়ার কথা। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় এর সঙ্গে যুক্ত ছিল না।

সরকারি সিদ্ধান্তগুলো ছিল-

১. (ক) বাংলাদেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত) ছাত্র বেতন ১৯৭২ সালের পয়লা মার্চ থেকে প্রতি মাসে নিম্নলিখিত করতে হবে-

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির (কেবল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিক সেকশনের জন্য) তিন টাকা।

তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম শ্রেণির জন্য চার টাকা। ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য পাঁচ টাকা। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির জন্য ছয় টাকা। নবম ও দশম শ্রেণির (সকল গ্রুপ) জন্য সাত টাকা। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য দশ টাকা। বিএ এবং বিকম (পাস ও স্নাতক)-এর জন্য এগারো টাকা। বিএসসি-এর জন্য বারো টাকা।

(খ) প্রাক প্রাথমিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র বেতন তিন টাকার বেশি হবে না।

২. বাংলাদেশে সরকারি, বেসরকারি নির্বিশেষে প্রাক-প্রাইমারি থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন থেকেই শিক্ষার মাধ্যম হবে বাংলা। ইংরেজি মাধ্যম অধ্যয়নকারী যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির মধ্যে রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে অবস্থা বিশেষে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য এক থেকে দু’বছর সময় দেওয়া যেতে পারে। এ সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী এসএসসি অথবা এইচএসসি পরীক্ষা পাসের সঙ্গে সঙ্গে (এ ব্যাপারে সময়সীমা ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে) তাদের পরবর্তী উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে বাংলা মাধ্যমে।

অর্থাৎ নতুন দেশে মাতৃভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার একটা অসাধারণ উদ্যোগ নিয়েছিল তৎকালীন সরকার। এর আগে একই বছর ৬ জানুয়ারি পত্রিকায় প্রকাশ পায় বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. কুদরত ই খুদার একটি বক্তব্য। তিনিও মাতৃভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়নের প্রস্তাব করেন।

অতীতের প্রসঙ্গটি তুললাম প্রথমত, বেতন কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের দিকে নজর দেওয়ার জন্য। কারণ, তখন একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ। মানুষের চাকরি নেই, বেতন নেই, অর্থনৈতিক সংকট। সেদিক সরকার বিবেচনায় নিয়েছিল বলে ধারণা করা যায়। এই মহামারিকালের সঙ্গে আমি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের তুলনা করছি না। কিন্তু এই যে সময় আমরা পার করছি– এটা মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্তের জন্য অত্যন্ত কঠিন সময়। এখন তো বেতন কিংবা ফি কমিয়ে দেওয়ার কথা আমাদের ভাবতে হবে। সেখানে করারোপ কেন?

দ্বিতীয়ত হলো, বাংলা ভাষায় শিক্ষা দেওয়া। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছর হয়ে গেছে। এখনও একটি ভাষায়  শিক্ষা প্রদান কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। যে জাতি ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে সে জাতির পক্ষে কেন বাংলা ভাষায় সব পর্যায়ের শিক্ষা কার্যকর করা যায়নি সেটা ভিন্ন একটি প্রসঙ্গ। এ লেখার বিষয় সেটা নয়।

বাস্তবতা হলো, দেশ স্বাধীন হয়েছিল যে স্বপ্ন নিয়ে সেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে এখনও আমরা নির্মাণ করতে পারিনি। এখনও আমাদের ‘ট্রায়েল অ্যান্ড এরর’-এর মধ্য দিয়ে যেতে হয়। একমুখী এবং একক ভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা এখনও এই রাষ্ট্রে সম্ভব হয়নি। সম্ভব করাও এখন কঠিন। বৈশ্বিক উন্নয়নের দিকে নিজেকে খাপ খাওয়াতে হলে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এখন সময়ের চাহিদা হয়ে দেখা দিয়েছে, কিন্তু সেটা অবশ্যই বাংলাকে বাদ দিয়ে নয়।  

যাহোক, এত কিছুর পরও যখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলছে, সরকার অনুমোদন দিচ্ছে, তখন তো তাদের সহযোগিতা করতে হবে। আমি মনে করি, সরকার এসব প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করলে টিউশন ফিস কমিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারে। এতে দেশের  একটা বড় জনগোষ্ঠী, যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুযোগ পাবে না, তারা এখানে অতি স্বল্প টিউশন ফি দিয়ে শিক্ষা অর্জন করতে পারবে। সরকারের উচিত সেদিকেই পা বাড়ানো।

এমনকি যারা স্টেকহোল্ডার অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালিকপক্ষ, একইসঙ্গে  অ্যালাইমনাই, অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই খাতটিকে কী করে উন্নত করা যায় তা নিয়েও সরকার ভাবতে পারে। এসব না করে বিদেশি স্টাডি সেন্টার অনুমোদন এবং করারোপের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পথচলায় বাধা কেন দেওয়া হচ্ছে– সেই প্রশ্নের উত্তর জানাটাও এখন জরুরি।