vond

Posted by: | Posted on: December 11, 2020

ডেইলি প্রেস ওয়াচ রিপোর্টঃ রাজধানীর রাজারবাগের আল-মুতমাইন্নাহ মা ও শিশু হাসপাতাল। হাসপাতালের সামনে ফ্লাইওভারের নীচে পিলারে বড় করে পোস্টার সাঁটানো। যাতে লেখা রয়েছে ‘সর্দি-কাশি-জ্বর নিয়ে আতঙ্ক, ভয় আর নয়, করোনাভাইরাস মহামারিও নয় এবং ছোঁয়াচেও নয়’। সেখানে আরও লেখা হয়েছে, ‘এ হাসপাতালে সুপরামর্শ ও চিকিৎসা দেওয়া হয়’। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের ঘোষণা যারা দেন তাদেরকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করা উচিত। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, তারা অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। প্রসঙ্গত, গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে বিশ্বব্যাপী মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
এ বিষয়ে আল-মুতমাইন্নাহ মা ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচারক ডা. আব্দুল আলী মারুফ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘এই লেখা কাদের তারা জানেন না।’ হাসপাতালের সামনে এ লেখা নিয়ে আপনাদের বক্তব্য আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি এখন দেখভাল করছি। এরকম কেন হলো। কিন্তু এ লিফলেট কে কারা লাগিয়েছে এটা বুঝে উঠতে পারিনি। এর সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই।’ ডা. আব্দুল আলী মারুফ বলেন, ‘হাসপাতাল তো দেশের প্রচলিত নিয়ম-কানুন, লাইসেন্স মেনেই চলে। দেশে যে নিয়ম রয়েছে তার বিপক্ষে গিয়ে আমি কিছু করতে পারবো না। আমার যেটা বিশ্বাস আছে সেটা আমার কাছে।’

তাহলে কি এ লেখা হাসপাতালের নয় প্রশ্ন করলে তিনি দাবি করেন, ‘আমাদের হাসপাতালের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু এটা আমার অনুমতি ছাড়া। যে কেউ হাসপাতালের নাম ব্যবহার করতে পারে।’ কিন্তু ঢাকা শহরে এত হাসপাতাল থাকতে কেন আপনার হাসপাতালের নাম ব্যবহার করা হবে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনুরাগী-অনুসারী আছে, যারা এখানে চিকিৎসা নেয়। তাদের কেউ উৎসাহী হয়েও এটা করতে পারে। কারও ব্যক্তিগত বিলিভ যদি আমার নাম দিয়ে চালিয়ে দেয়, তখন তো আমার কিছু বলার থাকে না।’

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ চিন্ময় দাস বলেন, ‘এসব কাজ যারা করছে তারা দেশদ্রোহী। মহামারি নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য যদি কেউ দেয় এবং মানুষের কাছে সেটা দৃশ্যমান হয় তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

এই অপরাধে ইজিলি অ্যারেস্ট করা যায়, মামলা করা যায় মন্তব্য করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ( বিএমএ) এর মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এটা কী একটা অবস্থা—এটা চিন্তাই করা যায় না।’ ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘তাদেরকে দেশের প্রচলিত মহামারি নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী জরুরিভাবে গ্রেফতার করা উচিত। তাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাইতে হবে। করোনা মহামারি নয়—এটা তাকে প্রমাণ করতে হবে। আর মহামারির বিরুদ্ধে প্রচার করার জন্য অবশ্যই এর শাস্তি হওয়া উচিত। আর স্বাস্থ্য অধিদফতরের উচিত অতি দ্রুত এই ক্লিনিক সিলগালা করে দেওয়া, এটা চলতে পারে না।’

কোনও হাসপাতাল-ক্লিনিক এভাবে লিখতে পারে না জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা ব্যবস্থা নেবো। টিম পাঠিয়ে অবশ্যই স্বাস্থ্য অধিদফতর দেখবে। আর এটা লিখে থাকলে এবং প্রচার করলে সেটা অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।সুত্র- বাংলা ট্রিবিউন।