2c2575df4613e6d5bde1dae7664e16ca-5f5daff4dca25

Posted by: | Posted on: September 13, 2020

“বর্বর পাকিস্তানি ও ফাদার টিম”
———-জাঁ-নেসার ওসমান
ষাটের দশক।
ঢাকা কলেজ ও নটর ডেম কলেজ।
র্পূব-পাকিস্তানে তখন সারা দেশে এই দুটি কলেজ ছাড়া অন্য কলেজের তেমন নাম গন্ধ নেই।
জগন্নাথ কলেজকে তখন বলা হতো জগু বাবুর পাঠশালা।
ঢাকা কলেজ ও নটর ডেম কলেজে ভর্তি হতে না পারলে, অগত্যা সব ছাত্ররা জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হোতো। জগন্নাথ কলেজ আয়তনে বৃহৎ তাই তৃতীয় শ্রেণীতে ম্যাট্রিক পাশ করা সব ছাত্রকে সাদরে আসন দিতো।
ঢাকা কলেজে তখন সব সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক শওকত ওসমান, জালালউদ্দিন স্যার, নোমান স্যার সব শিক্ষা- ক্ষেত্রের সব উজ্বল নক্ষত্ররা বিরাজ করছেন।
আর এদিকে নটর ডেম কলেজে ফাদার পিশোটো, ফাদার লুরোসো, ফাদার টিম, শিক্ষার লড়াই যেন, বার্সোলোনা, রিয়েল মাদ্রিদ।
নটর ডেম কলেজে তখন ভর্তি হয়েছেন ম্যাট্রিকুলেশনস-এর ফার্ষ্ট ষ্যান্ড করা মেধাবী ছাত্র আবদুল মঈন খান, যিনি পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিঞ্জান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আরও ভর্তি হয়েছেন কথাশিল্পী শওকত ওসমানের পূত্র ইয়াফেস ওসমান যিনি বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিঞ্জান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের রানিং মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আর তখন নটর ডেম কলেজে পড়তো ননবেঙ্গলী পাকিস্তানি ছাত্র। এদের সংখ্যা, বাঙালী ছাত্রদের তুলনায় অধিক। এই সব ধনী ব্যবসায়ীদের দুলালরা পিতার াগাধ অর্থের প্রার্চুয্যে ধরাকে সরা ঞ্জান করতো।
একবারতো এরা ছাত্র অবস্থায়, ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদার র‌্যালী সাইকেল চুরি করে কলেজে আলোড়ন সৃষ্টি করলো। তৎকালীন বখে যাওয়া তরুণদের যত রকম বাঁদরামী এই ননবেঙ্গলী শাখামৃগদের নিত্য-দিনের রুটিন ছিলো।
কলেজে সিগারেট ফোঁকা, ক্লাসে রোল কলের সময় পেছনের সারি থেকে বিড়ালের মিঁউ মিঁউ ডাক, কাকের কর্কশ কা কা ক্ক ক্ক শব্দ করতো।
একবার এই ননবেঙ্গলী পাকিস্তানি ছাত্ররা করলো এক জঘন্য অপরাধ যা ষাটের দশকে র্পূব-পাকিস্তানে কেউ সহজ ভাবে গ্রহণ করেনি।
ঘটনা নাকি দূর্ঘটনা:
“প্রতিদিনের মতো নটর ডেম কলেজের ফাদার রিচার্ড উলিয়াম টিম, ধীরে ধীরে বাস্কেট বল কোর্টের পাশ দিয়ে হেঁটে আসছেন, সকাল দশটার ক্লাশ ধরবেন।
টিচার্স কোয়ার্টার থেকে হেঁটে এসে ঠিক সময়ে ক্লাশে প্রবেশ করা প্রতিদিনের রুটিন ছিলো।
ফাদার আসছেন দেখে সব ছাত্ররা তাদের শ্রেণী কক্ষে প্রবেশ করে। ক্লাশের প্রথম সারিতে মেধাবী ছাত্র মঈন খান বসে।
ক্লাশের পথে ফাদার রিচার্ড উলিয়াম টিম, যিনি বাংলাদেশের মানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৭০’এর প্রলয়ংকরি জলো”্ছাসে প্রথম রিলিফ নিয়ে মনপুরায় যান।
আর ১৯৭১’এর মুক্তিযূদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে তাঁর যে ভুমিকা তা নিয়ে নাকি পৃথক গ্রন্থ রচনা হতে পাওে বলে, মতামত দিয়েছেন ড. মোমেন ওরফে আন্দালিব রাশদী।
সেই জনদরদী ফাদার রিচার্ড উলিয়াম টিম ক্লাশে প্রবেশ করলেন। স্বভাবতই শিক্ষকরে শ্রদ্ধা জানাতে সব ছাত্ররা দাঁড়িয়ে পড়লো।
ফাদার টিম হাতের ইশারায় ছাত্রদের বসতে বললেন।
তারপর হাতের বই খাতা টেবিলে রোল কলের জন্য চেয়ারে বসেই বৈদ্যুতিক শক লাগার মতো ছিটকে লাফিয়ে উঠলেন ফাদার রিচার্ড উলিয়াম টিম।
পেছন থেকে হাত দিয়ে কাঠের প্রায় ছ’ইঞ্চির মতো একটা কাঠের টুকরো টান দিয়ে বের করেই সামনে ছুঁড়ে মারলেন। সামনের সারিতে বসা মঈন খান চট করে মাথা না সরালে আর একটু হলেই মঈন খানের মাথায় লাগতো।
ফাদার রিচার্ড উলিয়াম টিম দ্রæত ক্লাশ থেকে বেরিয়ে গেলেন, তাঁর রোবের পশ্চাৎ দিকে লাল রক্তে ভিজে জব জবে। দ্রæত ক্লাশ থেকে বেরিয়ে ফাদার রিচার্ড উলিয়াম টিম তাঁর নীল রংএর ভেসপা মোটর সাইকেল নিজেই চালিয়ে হোলী ফ্যামিলি হসপিটালের পথে রওয়ানা হলেন।
ক্লাশে ছাত্রদের মাঝে হতবাক, অবাক, নির্বাক সবাক পরিবেশ। ফাদার রিচার্ড উলিয়াম টিমের ছুঁড়ে ফেলা কাঠের টুকরোটা এক ছাত্র দেখলো যে, কাঠের টুকরোর মাঝে একটা কীলক মানে লোহার পেরেক, উল্টো করে গাঁথা।
এই নগ্ন কীলক কোনো হীং¯্র ভয়ঙ্কর ননবেঙ্গলী ছাত্র এটা ফাদার রিচার্ড উলিয়াম টিম যে চেয়ারে বসে ছিলেন
সেখানে রেখেছিলো। ফলে ফাদার বসার সাথে সাথে তার পেছনে কীলকটি গেঁথে যায় আর হু হু করে রক্তপাত।
তাৎক্ষণিক ব্যাথায় ফাদার রিচার্ড উলিয়াম টিম তাঁর সহজাত রিফ্লেক্সের কারণে কীলক মানে তারকাটা বা পেরেক সহ কাঠের টুকরোটা টেনে বের করে ছুঁড়ে ফেলেন।
এই হচ্ছে বন্য পাকিস্তানি ননবেঙ্গলী ছাত্রের লঙ্কাকান্ড।
এই ঘটনার ন’বছর পর বাংলাদেশ বর্বর পাকিস্তানি শাষকের হাত থেকে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীণতা লাভ করে।
বর্বর পাকিস্তানি ননবেঙ্গলী ছাত্র এই ঘটনাটা ঘটিয়ে ছিলো সম্ভবত সালটা ১৯৬২।