dr k

Posted by: | Posted on: September 9, 2020

১৪ ই জুন, ২০১৭ সালে একটি ভঙ্গুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার।

তিন বছর পর এই শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকালে সার্বিক উন্নয়ন এবং স্যারের বুদ্ধিমত্তার সাথে কঠোর পরিশ্রম চোখে পড়ে। যিনি উন্নত দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুনত্বের আদলে তার সৃজনশীল মননের মাধ্যমে সকল কিছু যুগোপযোগীকরণের প্রয়াস চালিয়েছেন এবং উন্নত বিশ্বের সাথে তাল রেখে সজীব করে চলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সেক্টর। তার পাশাপাশি নতুন নতুন অত্যাধুনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন বাস্তবতার নিরিখে। সেদিকে দৃষ্টিপাত করলে তাঁর অপরিসীম অবদানের কথা শেষ হবেনা।
এই করোনা মহামারী দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে তিনি অত্যন্ত যোগ্য উপাচার্যের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের “বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল” থেকে এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের সীট-ভাড়া মওকুফ সহ অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মেস-ভাড়া মওকুফের আবেদন জানিয়েছেন। যেটি তাঁকে বাংলাদেশে ছাত্র-বান্ধব উপাচার্যের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতীক হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।

যদিও এর আগে শ্রেণীকক্ষে এবং শ্রেণীকক্ষের বাইরে ছাত্রদের নিকট থেকে বহুবার শুনেছি তারা তাদের যেকোনো সমস্যায় স্যার কে মুঠো ফোনে বা তার বিশ্ববিদ্যালয়স্থ বাসভবনে গিয়ে কথা বলতে পারেন এবং জানাতে পারে তাদের সমস্যার কথা। বিষয়টি আমাদের অবাক করেছিলো কারণ আমরা কখনও অভ্যস্ত ছিলাম না এমন ঘটনার। একদিন আমার সদ্য ভর্তি হওয়া কিছু ছাত্রকে পাঠিয়েছিলাম স্যারের নিকট তাদের কোর্স সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলাপ করতে, পরে জানলাম তিনি এমনই শিক্ষার্থী বান্ধব।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের আবাসিক সমস্যা নিরসনে “শেখ হাসিনা ছাত্রী হল” নির্মাণাধীন পুরো ক্যাম্পাসকে ওয়াই-ফাই ভুক্ত, ক্যাফেটেরিয়া চালুকরণ, মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন এবং ডেন্টাল ইউনিট চালুসহ সেশনজট দূর করতে উদ্যোগ গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা নিরসনে সর্বদা তৎপর তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কর্ম এগিয়ে নিতে ড. ওয়াজেদ রিসার্চ এন্ড ট্রেইনিং ইন্সটিটিউট চালুকরণ এবং ইন্সটিটিউটের অধীনে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম পুনরায় চালুসহ গবেষণা এবং জার্নাল প্রকাশে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরকে শীর্ষস্থানে নিয়ে আসার অবদান এই মহান ব্যক্তির। এছাড়া প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ আইটি সেল গঠন এবং নবনিযুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন।

সামগ্রিকভাবে পৃথিবীর সকল উন্নয়নশীল দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও জাতীয়ভাবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির ব্যবধান লক্ষণীয়। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোও এর ব্যতিক্রম নয়। গঠনমূলক সমালোচনা, সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বস্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের যথাযথ সদিচ্ছার উপর নির্ভর করছে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। সে দিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে কঠোর পরিশ্রমী এবং কর্তব্যনিষ্ঠ অভিভাবকের কারণে একসময়ের নাম-নিষ্প্রাণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এখন দর্শনার্থীদের কাছে প্রিয় জায়গা। অপরাজনীতি, নিয়োগ-বাণিজ্যসহ সকল সমস্যার সমাধানে সবসময় তিনি নির্ভীক থেকেছেন।
স্যার, আপনার সৃজনশীল এবং দূরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমে সকলের অভিভাবক হিসেবে বটবৃক্ষের মত আপনি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে যাবেন উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে, আপনার পথচলায় আমরা আশাবাদী।

ত্বহা হুসাইন
প্রভাষক, জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ,
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। রংপুর- ৫৪০৪।
নির্বাহী সদস্য, নবপ্রজন্ম শিক্ষক পরিষদ,
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।