Wednesday, July 22nd, 2020

now browsing by day

 
Posted by: | Posted on: July 22, 2020

নরেন দাস এর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক

ঢাকা, ২১ জুলাই, ২০২০ : তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগের সচিব নরেন দাস এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নরেন দাসের অকালমৃত্যুতে শোকাহত তথ্যমন্ত্রী প্রয়াতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নরেন দাসের মৃত্যুতে আমরা একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে হারালাম।’ (বাসস)

Posted by: | Posted on: July 22, 2020

বেরোবিকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন সারথী চিরসবুজ আধুনিক শিক্ষক উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ

দিপু সিদ্দিকী : চিন্তায়, চেতনায়, মানসিকতায় এগিয়ে থাকা সবথেকে বিচক্ষণ ব্যক্তিটিই এখন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বেরোবি’র অভিভাবক। তিনি চিরসবুজ আধুনিক শিক্ষক উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ।তাঁর দূরদর্শী চিন্তা-ভাবনা একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সবদিক থেকে বেরোবি, রংপুর-কে রাখছে সদা প্রস্তুত। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে শিক্ষায়, গবেষণায়, উদ্ভাবনী চিন্তায় মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার সর্বদায় নিরলস ভূমিকা রেখে চলেছেন। জাতীয় পর্যায়ে অবদান রেখে চলা বিভিন্ন রিসোর্স পারসনদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বিভাগে নিয়মিত সভা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করবার ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে চলেছেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও ।

যুগের অগ্রগামী চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক ব্র‍্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রতিনিয়ত নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন বেরোবি, রংপুর এর বর্তমান উপাচার্য।

Posted by: | Posted on: July 22, 2020

স্থিরচিত্রে জাতির বরেণ্য ব্যাক্তিত্ব

বিশেষ সংবাদদাতাঃ

স্থিরচিত্রে ১৯৮০ সালে দেশবরণ্যে পাচঁ অধ্যাপক ও একজন সচিব, এ যেন এক ঐতিহাসিক ছবি। জনাব মনজুর রহমান ,সাবেক সচিব , বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২। প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার,মাননীয় উপাচার্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর ৩। প্রফেসর ড. মাহবুব সাদিক ,সাবেক অধ্যক্ষ, সরকারী সা’দত কলেজ, করটিয়া, টাঙ্গাইল ৪। প্রফেসর ড. রফিক উল্লাহ খান, মাননীয় উপাচার্য শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়,নেত্রকোনা।৫। প্রফেসর ড. গিয়াস শামীম,বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৬। প্রফেসর ড. সৈয়দ আকরম হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক উপ-উপাচার্য, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (সামনে বসা) সহ ওনার সহধর্মীনি ও দুই ছেলে প্রতীক ও অভীক। ছবি তোলার সময় ও স্থান: ১৯৮০ সাল, ঢাকা ফুলার রোডের শিক্ষক কোয়ার্টার,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Posted by: | Posted on: July 22, 2020

১৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন শেখ হাসিনা: কাদের

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেতারের মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এছাড়া তিনি জানান, কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন যেন তিনি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের কর্মসূচিতে সশরীরে উপস্থিত না হন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য আয়োজিত এক যৌথ সভায় নিজ বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে এই মতামত দেন।

আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে এক বিশেষ যৌথ অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় দেশবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় আগস্ট মাসজুড়ে দলীয় কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি মেনে চলার জন্য। সভায় উপস্থিত ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষ থেকে মাসব্যাপী কর্মসূচির প্রস্তাব তুলে ধরেন।

সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগস্ট মাস শোকের মাস। আগস্ট মাসে আমাদের অনেকগুলো কর্মসূচি রয়েছে। ১৫ই আগস্ট সর্বকালের সর্বশেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। এছাড়া ৫ আগস্ট জাতির পিতার জেষ্ঠ্য পুত্র শেখ কামালের জন্মদিন, ৮ আগস্ট বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জন্মদিন, ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা দিবস, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস পালন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।’

তিনি বলেন, ‘মুজিববর্ষে ভাবগাম্ভীর্য ও তাৎপর্যপূর্ণভাবে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি করার পরিকল্পনা ছিল। ১৫ আগস্ট স্মরণে সেই পরিকল্পনা দুর্ভাগ্যজনকভাবে বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে অথবা যেভাবে করতে চেয়েছিলাম সেভাবে আমরা করতে পারব না। আমি কিছুক্ষণ আগে নেত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে আলাপ করেছি, আপনারা এর আগে যে আলোচনা করেছেন সেই সূচিটা আমার হাতে এসেছে। তিনি যেটা বলেছেন সেটা হচ্ছে, ১৫ আগস্টের যে প্রোগ্রাম জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দলীয় পতাকা উত্তোলন এসব বিষয় থাকবে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ভবনে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, টুঙ্গিপাড়ায় আমাদের একটি প্রতিনিধি দল যাবে। এটা নেত্রী বলেছেন এবং ৩২ নম্বরে আমরা সীমিত আকারে শ্রদ্ধা নিবেদন করব শৃঙ্খলা মেনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে যাতে করে কোনো ধরনের জনসমাগম যেন না হয়।’

এছাড়া মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এটা সারাদেশে করতে হবে, মন্দির-গির্জা-প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনাসভা কর্মসূচি থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ‘তাছাড়া এদিন আমাদের যে ভার্চুয়াল আলোচনাসভা সে ব্যাপারে নেত্রী সম্মত হয়েছেন। শুধু মূল সংগঠন নয়, আমরা আলোচনার ব্যবস্থাও করতে পারি। পুরো মাস আমাদের কর্মসূচি করার সুযোগ আছে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, এখন অনেক মানুষ ভাসমান। অনেকে ফুটপাতে খোলা আকাশের নিচে বাস করে, যারা ফ্লাইওভার রেলস্টেশন, টার্মিনালে বসবাস করে- এই ভাসমান মানুষগুলোকে এদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে খাবার বিতরণ ও ত্রাণ বিতরণ করতে হবে।’ বিশেষ করে বন্যা কবলিত এলাকায় আজকে যারা বানভাসি মানুষ, পানিবন্দি হয়ে আছেন, যারা ঘরবাড়ি হারিয়ে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে, এদের পাশে দাঁড়াতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

১৫ আগস্ট ও ২১ শে আগস্টের কর্মসূচিতে যাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্শরীরে করোনা সংকটের এই সময়ে উপস্থিত না হয় সে বিষয়ে নেত্রীকে কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষ থেকে অবহিত করার জন্য দলীয় সাধারণ সম্পাদককে প্রস্তাব দেন সভায় উপস্থিত নেতারা।

এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখানে নেত্রীর নিরাপত্তাজনিত একটা বিষয় আছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ১৫ আগস্ট আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক সবচেয়ে রক্তাক্ত ঘটনা এবং পৃথিবীর ইতিহাসে যত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হয়েছে সব রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ম্ল্যান করে দিয়ে সবগুলোকে পিছিয়ে দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ছিল হত্যাকাণ্ড ছিল সবচেয়ে কলঙ্কজনক হত্যাকাণ্ড। যেখানে অবলা নারী ও শিশু অন্তঃসত্ত্বা নারী হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছে। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড এবং ২১ আগস্ট; একই সূত্রে গাঁথা। ১৫ আগস্ট যে হত্যাকাণ্ড এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সংযোগ রয়েছে। ১৫ আগস্ট প্রাইম টার্গেট ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। আর ২১ একুশে আগস্ট হত্যাকাণ্ডের প্রাইম টার্গেট ছিলেন আমাদের নেত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

দলীয় নেতাদের উদ্দেশে কাদের বলেন, ‘আমি আপনাদের যে প্রস্তাব, নেত্রীকে জানাব। তারপর এটা মনে রাখতে হবে ২৩ তারিখেও নেত্রী আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন তাকে কোনোভাবেই তার সিকিউরিটি অ্যালাউ করেনি। নেত্রীর ভার্চুয়াল মিটিংও বিশাল সভায় পরিণত হবে, এটা আমাদের ভুললে চলবে না। শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখবেন, এই খবর যখন শুনবে তখন আর কেউ ঘরে বসে থাকবে না। সবাই চলে আসবে। কাজেই নেত্রী টেলিভিশন এবং বেতারের মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে একটা ভাষণ দিতে পারেন, সেটাই বোধহয় সবচেয়ে ভালো।’

এছাড়াও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে যে ক্রোড়পত্র পত্রপত্রিকায় বের হয় তা নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ করার জন্য এ দিকটার দিকে খেয়াল রাখার জন্য দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বৈশ্বিক মহামারি করোনায় সৃষ্ট সংকট উত্তরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জীবনের পাশাপাশি জীবিকা রক্ষার জন্য মানুষের কল্যাণে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছেন।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি। প্রধান অতিথি হিসেবে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক এমপি, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসনে, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, শাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনিসুর রহমানসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

Posted by: | Posted on: July 22, 2020

গবেষণায় উঠে এল ভয়ংকর তথ্য, নিয়মিত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেলে বাড়ে করোনার ঝুঁকি

বর্তমানে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ মানুষের নিত্য সঙ্গী। সকাল শুরু হয় গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে আবার ঘুমাতে যাবার আগেও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ। যারা প্রত্যেক দিন প্যান্টোপ্রাজোল জাতীয় ওষুধ খান এবার তাদের জন্য আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন ভাইরোলজিস্টরা। এসব ওষুধে সেবনের ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আড়াই থেকে ৩.৭ গুণ বেড়ে যায়।

আমেরিকান ‘জার্নাল অফ গ্যাসট্রো এন্টেরোলজি’ র বরাত দিয়ে লাইভসাইন্সর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সম্প্রতি এই বিষয়ে এক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। আমেরিকার সিডার্স সিনাই মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাবিজ্ঞানী ব্রেনান স্পিগেল  ৮৬ হাজার মানুষের ওপর এক জরিপ করার পর এই গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ৮৬ হাজার জনের মধ্যে ৫৩ হাজার জনের বেশি মানুষ পেটে অস্বস্তি, ব্যথা, অ্যাসিডিটি, গলা বুক জ্বালা ও হার্ট বার্নের সমস্যার কারণে নিয়মিত প্যান্টো প্রাজোল জাতীয় ওষুধ খান। এদের মধ্যে প্রায় ৩,৩০০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

ব্রেম্যান স্পিগেল এই গবেষণাপত্রে জানিয়েছেন, অনেকে নিজেদের ইচ্ছায় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দিনে দুইবার পর্যন্ত পিপিআই জাতীয় ওষুধ খান। এর ফলে পেটের অ্যাসিড প্রশমিত হয় ঠিকই, কিন্তু বেড়ে যায় অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি।  করোনার এই মহামারির সময়ে পিপিআই গ্রহণকারীদের সার্স কোভ-২ ভাইরাস সংক্রমণ তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি হচ্ছে বলে সমীক্ষায় জানা গেছে।

পাকস্থলী ও অন্ত্র আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়।  অন্ত্রে অ্যাসিডের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে অন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে কোভিড ১৯ ভাইরাসের সংক্রমণের পথ সুগম হয়।  

গ্যাসট্রো এন্টেরোলজিস্ট সুনীলবরণ দাস চক্রবর্তী জানালেন, আমাদের পাকস্থলীতে নানা ধরনের অ্যাসিড থাকে।  এদের মধ্যে অন্যতম হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড।  এছাড়াও আছে পটাসিয়াম ক্লোরাইড এবং সোডিয়াম ক্লোরাইড।  এসব অ্যাসিড মিলিত ভাবে খাবার পরিপাকে সাহায্য করে।  মূলত খাবার খাওয়ার পর হজমের জন্য পাকস্থলীর অ্যাসিড ক্ষরণ বেড়ে যায়।  মূলত গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থির পেরিয়েটাল কোষ থেকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নিঃসৃত হয়।

সুনীলবরণবাবু জানালেন, বিভিন্ন কারণে (মূলত ত্রুটিপূর্ণ খাবারের অভ্যাস ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ) অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে দিতে পারে।  পাকস্থলীতে একটি নির্দিষ্ট পিএইচ ভারসাম্য থাকে।  এটি হল ১.৫ থেকে ৩.৫।  খাবার হজম করা ছাড়াও এই পিএইচ ভারসাম্য বজায় থাকলে নানা ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া এই অ্যাসিডিক পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে না।  ফলে আমরা সুরক্ষিত থাকি।  যারা কারণে-অকারণে এ জাতীয় ওষুধ কিনে অ্যাসিডিটি মুক্তির জন্য নিয়ম করে খান, তাদের পাকস্থলীর স্বাভাবিক সুরক্ষা করার পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।  এর ফলে এদের পেটের নানা সংক্রমণের ঝুঁকি এক লাফে বেড়ে যায়। 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষদের মধ্যেই প্যান্টোপ্রাজোল জাতীয় ওষুধ একটানা খেয়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা আছে।  তাদের মধ্যে কোভিড ১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি বলে জানালেন সুনীলবরণ দাস চক্রবর্তী।

২০০২-২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের মহামারির সময় সমীক্ষায় জানা গিয়েছিল, যারা নাগাড়ে পিপিই খান তাঁদের মধ্যে সার্স কোভ-এর সংক্রমণের হার অনেক বেশি ছিল।  একই ভাবে কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণের হারও বেশি দেখা যাচ্ছে। 

নিয়মিত প্যান্টোপ্রাজোল খেয়ে গেলে কিডনির সমস্যা, ডিমেনশিয়া অর্থাৎ ভুলে যাওয়া, অস্টিওপোরোসিস ও তার কারণে অল্প চোট আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়া এবং পেটের অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এই প্রসঙ্গে ইন্টারনাল মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ অর্পণ চৌধুরী জানালেন, কোনও অবস্থাতেই এক মাসের বেশি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর খাওয়া ঠিক নয়। কোভিড ১৯ অতিমারির সময় এই ওষুধটি দেয়া বন্ধ রাখাই ভাল বলে মনে করেন তিনি। যাঁদের নিতান্তই অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়া প্রয়োজন, তাঁদের

 কোভিড ১৯ সন্দেহ হলেই যারা এই ওষুধটি খান, তাদের দ্রুত ওষুধ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়, বললেন অর্পণ চৌধুরী।  একটি মাত্র পিপিই খেলে পিএইচ-এর মাত্রা একদম ওলটপালট হয়ে যায়। ২ থেকে বেড়ে ৬ হয়ে যেতে পারে।

এই প্রসঙ্গে সুনীলবরণ দাসচক্রবর্তী জানালেন, ঘাড়ে ব্যথা বা মাথার যন্ত্রণার জন্যেও অনেকে পিপিই খান। অনেকেই মনে করেন। সব রোগের মূলে গ্যাস আর অ্যাসিডিটি, তাই পিপিই খাওয়া অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেন।  চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধই খাওয়া যে ঠিক নয়, তা ভুললে চলবে না। আর কোভিড ১৯-এর সংক্রমণ রুখতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। মুখে, নাকে, চোখে হাত দেয়া যাবে না, ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে বলে উল্লেখ করেন দুই চিকিৎসকই।