Main Menu

সমকালের গোলটেবিলে বক্তারা এগিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

দক্ষ শিক্ষক ও গবেষণার অভাব, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থায় শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না, শিক্ষার মানও নিশ্চিত করতে হবে।

সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরো আয়োজিত ‘উচ্চশিক্ষায় সংকট: কোন পথে উত্তরণ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা অবশ্য এও বলেন, উচ্চশিক্ষায় বিদ্যমান নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এগিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।


সোমবার বেলা ১১টায় সমকাল চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিসের সেমিনার কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রামের প্রথম সারির আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রতিষ্ঠাতারা অংশ নেন। সভায় বক্তারা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছরের পথচলার চিত্র তুলে ধরে বিদ্যমান সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় তুলে ধরেন।


তারা স্বীকার করেন, কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও কম নয় বলেও তারা অভিমত দেন। মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়াতে হলে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও গণমাধ্যমকে বিশেষ ভূমিকা নিতে হবে বলেও মনে করেন তারা।


সভায় অনেক আলোচক বাংলাদেশে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস খোলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এটাকে উচ্চ শিক্ষার জন্য হুমকি বলেও মন্তব্য করেন।


সমকালের বিশেষ প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সারোয়ার সুমনের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমকালের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এস এম শাহাব উদ্দিন। আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য আনোয়ারুল আজিম আরিফ, ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর সিকান্দার খান, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. নুরুল আনোয়ার, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর রণজিৎ কুমার ধর, চিটাগাং ইন্ডিপেন্ডেন্টে ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. ইরশাদ কামাল খান, সাদার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রেজারার সারোয়ার জাহান, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা লায়ন মুজিবুর রহমান ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাকসুদুল জাহান জনি।


অনুষ্ঠানে একুশে পদকপ্রাপ্ত সম্পাদক গোলাম সারওয়ারকে ত্রেস্ট উপহার দেন অতিথিরা।


কাঁটা তারের বেড়া না দিয়ে উচ্চ শিক্ষার এ মহাসড়ক উন্মুক্ত করার আহবান জানিয়ে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, “প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার ফলে এখন লাখ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। আবার মানহীন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করে উচ্চ শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে। উচ্চ শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ দায়িত্ব নিতে হবে।”


“প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার ফলে এখন লাখ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। আবার মানহীন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করে উচ্চ শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে।”


দেশের হাতেগোনা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে উল্লেখ করে সমকাল সম্পাদক বলেন, “শুধু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নয়, অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অবশ্য এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিশাল অবদান রয়েছে।”


তিনি বলেন, “প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাণিজ্যিক স্বার্থের দিকটি দেখার পাশাপাশি শিক্ষার মানও যেন বজায় থাকে সে ব্যাপারে রাখতে হবে সজাগ দৃষ্টি।”


প্রসঙ্গক্রমে গোলাম সারওয়ার বলেন, “সমকাল দায়িত্বশীল সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করে। এ দায়িত্ব পালনে সংবাদ কর্মীদের আরো সতর্ক হতে হবে।”


তিনি চট্টগ্রামের প্রতি সমকালের বিশেষ গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চারলেনে উন্নীত করাসহ দেশের স্বার্থে অগ্রাধিকার ভিত্ততে চট্টগ্রামের উন্নয়ন হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন।


মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেন, “উচ্চ শিক্ষায় সংকট বহুমুখী। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দ খুবই কম। শিক্ষকদের কেবল বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। গবেষণা করার জন্য তেমন কিছুই থাকে না।”


তিনি বলেন, “এক সময় দেশে উচ্চ শিক্ষা প্রদানের প্রতিষ্ঠান ছিল হাতেগোনা। এখন দেশে ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ৭৭টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এরপরও শিক্ষকসহ নানা সংকট রয়েছে। মান নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। শিক্ষার মান কমে গেছে ঢালাওভাবে বলাটাও ঠিক নয়। মান রক্ষার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তরিক। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও শিক্ষার ব্যাপারে খুবই আন্তরিক।”


আশার কথা শুনিয়ে তিনি বলেন, “উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য ৬৬ কোটি ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প নিয়েছে সরকার। এছাড়া প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মনোন্নয়নের জন্য কোয়ালিটি সেল গঠন করা হচ্ছে। এটি শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষার জন্য অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।”


“উচ্চ শিক্ষায় সংকট বহুমুখী। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দ খুবই কম। শিক্ষকদের কেবল বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। গবেষণা করার জন্য তেমন কিছুই থাকে না।”


চবি উপাচার্য বলেন, “বিশ্বদ্যিালয় মঞ্জুরি কমিশন যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে পরিচালতি হচ্ছে। এটি উচ্চ শিক্ষার একটি বিশেষ দিক বলতে হবে। তার দাবী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল ক্যাম্পাসে পরিণত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সহজে ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়ার ফলে সহজেই তারা শিক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য পাচ্ছে।”


তিনি উচ্চ শিক্ষার সংকট নিরসনে সরকারের পাশাপাশি অন্যান্যদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে উল্লেখ করেন।


বক্তব্যের শুরুতে তিনি চট্টগ্রামে শিক্ষা সংক্রান্ত আরো মতবিনিময় সভা আয়োজনের জন্য সমকাল সম্পাদককে অনুরোধ করেন।


ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর সিকান্দার খান বলেন, “এখন ২ দশমিক ৫ পয়েন্ট পেলেই বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়। ভর্তিতে ক্ষেত্র বিশেষে এর কম জিপিএ প্রাপ্তদেরও সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পর্যাপ্ত মানসম্মত শিক্ষক এবং গবেষণাও বের হচ্ছে না। এর ফলে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লেও গুণগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে।”


তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য শিক্ষকদের শুধু বেতন-ভাতাই দেওয়া হয়, গবেষণার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো ফান্ড নেই। অথচ গবেষণাই হচ্ছে উচ্চ শিক্ষার প্রাণ।”


জবাবদিহীতা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক প্রকার মানহীন হয়ে পড়ছে উল্লেখ করে প্রফেসর সিকান্দার খান বলেন, “আমরা আইনের কথা বললেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয় আইন অমান্য করেই। ব্যবসায়ি সমাজ ও রাজনীতিকরা স্বচ্ছ না হলে শিক্ষায় এ সংকট দুর হবে না।”


বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরও বেশি করে মৌলিক জ্ঞান চর্চার আহবান জানিয়ে পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল আনোয়ার বলেন, “জনসংখ্যার অনুপাতে দেশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম। উচ্চ শিক্ষার মান বাড়াতে হলে শিক্ষকদের আরও বেশি সৃজনশীলতা চর্চা করতে হবে।”


তিনি বলেন, “কাঙ্খিত মান অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ে অপছাত্ররাজনীতি বন্ধ, সিলেবাস মডারেশন ও শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরীমুখী করার উদ্যোগ নিতে হবে। আন্তরিক হতে হবে মাতৃভাষার প্রতি। উচ্চ শিক্ষায় ব্যবহার বাড়াতে হবে বাংলা ভাষার।”


অধ্যাপক ড. নুরুল আনোয়ার আরো বলেন, “দেশের পরিবর্তে বিদেশের জার্নালে গবেষণা ও নিবন্ধন প্রকাশে শিক্ষকরা বেশী আগ্রহী। এ মানসিকতা পরিহার করতে হবে। শ্রেণী কক্ষে ভারসাম্য আনতে হবে ছাত্র-শিক্ষকের।”


বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপচার্য প্রফেসর রণজিৎ কুমার ধর বলেন, “বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তদারককারী প্রতিষ্ঠান ইউজিসি কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করেন। এরপর আর তারা কোন খবর রাখেন না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মনিটরিং এর দায়িত্বে থাকলেও ইউজিসি কর্তৃপক্ষ বছরে একবারও বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিদর্শনে আসেন না। এ সুযোগে কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জিপিএ ২.৫০ পয়েন্টের নিচের শিক্ষার্থীদেরও মানদণ্ড ছাড়া ভর্তি করাচ্ছেন।”


তিনি বলেন, “উচ্চ শিক্ষায় সরকারের জাতীয় বাজেটের মাত্র এক শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উচ্চ শিক্ষার প্রসার ও মান বাড়াতে বরাদ্দ আরো বাড়াতে হবে। সেই সাথে স্কু-কলেজের মতো মেয়েদের জন্য উচ্চ শিক্ষায়ও বৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”


চিটাগাং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ইরশাদ কামাল খান বলেন, “প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকল্প নয়। একে অন্যের পরিপূরক। দুই ধরণের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতার ক্ষেত্র বৃদ্ধি করা প্রযোজন।”


তিনি বলেন, “ইউজিসি ছোট সমস্যার পেছেনে বড় সময় ব্যয় করে। এ প্রবণতা থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যা চিহিক্রত করে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।”


তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্টের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোর সঠিক প্রয়োগের ওপর জোর দেন।


মতিবিনিময় সভায় সাদার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রেজারার সারওয়ার জাহান বলেন, “বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আসার পর উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি হয়েছে। এরপরও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সার্টিফিকেট সর্বস্ব বিশ্ববিদালয় বলে অভিযোগ করা হয়। এটা ঠিক নয়। পত্রিকায় দু’একটি ভালো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকিগুলোর মান ভালো নয় বলে উল্লেখ করা হয়। বরং আমি বলবো, দু’একটি ছাড়া বাকি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালগুলোর মান ভালো।”


তিনি শিক্ষার মান আরো বাড়াতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং মঞ্জুরি কমিশনের মনিটরিং জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা লায়ন মুজিবুর রহমান বলেন, “প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছে। আগে উচ্চ শিক্ষার জন্য অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমাতো। এখন মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় শিক্ষার্থীরা দেশেই উচ্চ শিক্ষা লাভ করছে। ফলে দেশের প্রচুর অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। কিন্তু ক্রমাগত নেতিবাচক প্রচারের কারণে দেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। দেশে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমতি দিলে দেশের ক্যাম্পাসগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে।”


সমকালের নির্বাহী সম্পাদক মেজর জেনারেল (অব.) এস এম শাহাব উদ্দিন বলেন, “সমকাল শুরু থেকে চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। চট্টগ্রামের সংবাদ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। চট্টগ্রামকে নিয়ে সমকালের বিশেষ পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা সবার সহযোগিতা চাই।”


তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে পুরো দেশের উন্নয়ন। আমরা চাই, চট্টগ্রাম যেনো সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হোক। চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়ন হোক।”


ব্যস্ততার মধ্যেও সমকালের ডাকে সাড়া দিয়ে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ায় আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান তিনি।


“সমকাল শুরু থেকে চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। চট্টগ্রামের সংবাদ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। চট্টগ্রামকে নিয়ে সমকালের বিশেষ পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা সবার সহযোগিতা চাই।”


অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সমকালর চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সারোয়ার সুমন বলেন, “উচ্চ শিক্ষার মান নিয়ে রয়েছে নানা মত। কারো মতে, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হচ্ছে না গবেষণা। বাড়ছে না পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। তাই ক্রমেই বাড়ছে মানহীন বিশ্ববিদ্যালয়। বিতর্ক আছে, খোদ ইউজিসির কার্যক্রম নিয়েও। উচ্চ শিক্ষায় বিদ্যমান এসব সমস্যা ও সংকট চিহ্নিত করতে সমকাল আয়োজন করেছে মতবিনিময় সভার।”


মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাকসুদুল জাহান জনি বলেন, “বেশির ভাগ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা ও চট্টগ্রামে অবস্থিত। উচ্চশিক্ষার প্রসারে এ আঞ্চলিক বৈষম্য কমানো প্রয়োজন।”


মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সমকালের ডিজিএম (মার্কেটিং) সুজিত কুমার দাশ, চট্টগ্রাম ব্যুরোর সিনিয়র রিপোর্টার তৌফিকুল ইসলাম বাবর, সিনিয়র সাব এডিটর বিশ্বজিত বণিক, সিনিয়র সাব এডিটর স্বপন কুমার মল্লিক, স্টাফ রিপোর্টার রুবেল খান, রিপোর্টার আহমেদ কুতুব, নোমান আবদুল্লাহ, সিমু দে, মো. সালাহ উদ্দিন, আনোয়ার রোজেন প্রমুখ।






Related News