Main Menu

ইনসুলিন সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে বিশ্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জীবনঘাতী রোগ বলা হয় ডায়াবেটিসকে। এই রোগের কারণে প্রতিবছর মারা যাচ্ছে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। বিশ্বে বর্তমানে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪২ কোটি ৫০ লাখ।

আর প্রতিবছরই আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হারে বেড়ে ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা দাঁড়াবে ৫১ কোটি ১০ লাখে। তবে সেই হারে বাড়বে না এই রোগে আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ইনসুলিনের সরবরাহ। ফলে ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের চার কোটির বেশি রোগী ইনসুলিন পাবেন না। এই অবস্থায় দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলে ভয়াবহ প্রভাবের আশঙ্কা করছেন গবেষকরা।

ল্যানসেট ডায়াবেটিস ও এন্ডোক্রায়োনোলজি জার্নালের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৭৯ মিলিয়ন বা সাত কোটি ৯০ লাখ টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগীর ইনসুলিনের প্রয়োজন হবে। তবে বর্তমান সরবরাহ বজায় থাকলে এর মাত্র অর্ধেক লোকই ওষুধটি হাতে পাবে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানেও প্রায় অর্ধেক টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগী ইনসুলিন পান না। ২০১৮ সালে সারা বিশ্বে যেখানে ছয় কোটি ৩০ লাখ ইনসুলিন দরকার সেখানে সরবরাহ আছে মাত্র তিন কোটি ৩০ লাখ। আর ২০৩০ সালের সাত কোটি ৯০ লাখের বিপরীতে সরবরাহের সক্ষমতা আছে মাত্র তিন কোটি ৮০ লাখ।

আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশন ও আরো ১৪টি সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সকল প্রাপ্তবয়স্কের প্রায় নয় শতাংশ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২২১টি দেশে টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৫১ কোটি ১০ লাখে। তবে তাদের সবারই যে ইনসুলিন প্রয়োজন হবে তা নয়। তখন যে ৭৯ মিলিয়ন ইনসুলিন দরকার হবে তাও বর্তমানের তুলনায় যা ২০ শতাংশ বেশি।

গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার সঞ্জয় বসু বলেন, ছোঁয়াচে নয় এমন রোগ বিশেষ করে ডায়াবেটিসের বিস্তার রোধে জাতিসংঘের নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও বর্তমানে চাহিদার তুলনায় ইনসুলিনের প্রাপ্যতা অনেক কম। আগামী ১২ বছরে বার্ধক্য, নগরায়ন, খাদ্যাভাস ও শারীরিক কাজকর্মের ধরনে নানা পরিবর্তনের কারণে গোটা বিশ্বেই টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাবে। উন্নত দেশগুলোর তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ বৃদ্ধির হার অনেক বেশি।

এখনই পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ইনসুলিন কখনোই নাগালের মধ্যে আসবে না। সে ক্ষেত্রে নেমে আসবে ভয়াবহ বিপর্যয়। কারণ রোগটি কেবল মৃত্যুর সংখ্যাই বাড়াবে না, বাড়বে অর্থনৈতিক চাপও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদন বলছে, কেবল ডায়াবেটিসের হার কমাতে পারলে সারা বিশ্বের স্বাস্থ্য খাতেই ১১ শতাংশ ব্যয় কমানো সম্ভব।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *